Sleep Apnea: ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়া কতটা বিপজ্জনক
Sleep Apnea কী
Sleep Apnea হলো একটি গুরুতর ঘুমজনিত সমস্যা, যেখানে ঘুমের সময় বারবার শ্বাস নেওয়া বন্ধ হয়ে যায় অথবা শ্বাস খুব অগভীর হয়ে পড়ে। এই শ্বাস বন্ধ থাকা কয়েক সেকেন্ড থেকে এক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং রাতে বহুবার ঘটতে পারে। এর ফলে শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না এবং ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ভেঙে যায়।
Sleep Apnea কেন হয়
Sleep Apnea হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলো হলো
* গলার পেশি অতিরিক্ত ঢিলে হয়ে যাওয়া
* অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
* নাক বা গলার পথ সংকীর্ণ হওয়া
* টনসিল বড় থাকা
* নাকের হাড় বেঁকে যাওয়া
* ধূমপান
* অ্যালকোহল গ্রহণ
* পারিবারিক ঝুঁকি
Sleep Apnea এর ধরন
Sleep Apnea মূলত তিন ধরনের হতে পারে
Obstructive Sleep Apnea
গলার ভেতরের পেশি ঢিলে হয়ে শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে গেলে এই ধরনের সমস্যা হয়। এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
Central Sleep Apnea
মস্তিষ্ক থেকে শ্বাস নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংকেত ঠিকভাবে না এলে এই সমস্যা হয়।
Complex Sleep Apnea
উপরের দুই ধরনের সমস্যার সমন্বয়ে সৃষ্টি হয়।
Sleep Apnea এর লক্ষণ
Sleep Apnea এর লক্ষণ অনেক সময় রোগী নিজে বুঝতে পারেন না। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো
* রাতে জোরে নাক ডাকা
* ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া
* হঠাৎ দম বন্ধ হয়ে ঘুম ভেঙে যাওয়া
* সকালে মাথাব্যথা
* মুখ শুকিয়ে যাওয়া
* সারাদিন অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব
* মনোযোগ কমে যাওয়া
* খিটখিটে মেজাজ
* স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া
Sleep Apnea কতটা ঝুঁকিপূর্ণ
চিকিৎসা ছাড়া দীর্ঘদিন Sleep Apnea থাকলে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে
* উচ্চ রক্তচাপ
* হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি
* ডায়াবেটিস
* হৃদস্পন্দনের অনিয়ম
* কর্মক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস
* সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি (ঘুম ঘুম ভাবের কারণে)
কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়
Sleep Apnea নির্ণয়ের জন্য যেসব পরীক্ষা করা হয়
* রোগীর ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা
* Sleep Study বা Polysomnography
* প্রয়োজনে Home Sleep Test
এই পরীক্ষার মাধ্যমে শ্বাস বন্ধ হওয়ার সংখ্যা ও তীব্রতা নির্ধারণ করা হয়।
Sleep Apnea এর চিকিৎসা
চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার ধরন ও তীব্রতার ওপর
* জীবনযাত্রার পরিবর্তন
ওজন কমানো
ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার
পাশ ফিরে ঘুমানো
* CPAP থেরাপি
এটি সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে একটি মেশিনের মাধ্যমে নিয়মিত বায়ুপ্রবাহ দিয়ে শ্বাসনালি খোলা রাখা হয়।
* Oral Appliance
হালকা থেকে মাঝারি সমস্যায় বিশেষ ডেন্টাল ডিভাইস ব্যবহার করা হয়।
* সার্জারি
নাক বা গলার গঠনগত সমস্যা থাকলে কিছু ক্ষেত্রে অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন
* নিয়মিত জোরে নাক ডাকলে
* ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়ার কথা পরিবারের কেউ লক্ষ্য করলে
* সারাদিন তীব্র ঘুম ঘুম ভাব থাকলে
* সকালে মাথাব্যথা ও ক্লান্তি না কমলে
শেষ কথা
Sleep Apnea শুধু নাক ডাকার সমস্যা নয়, এটি একটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি। সময়মতো শনাক্ত ও সঠিক চিকিৎসা নিলে এই সমস্যাকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ভালো ঘুম মানেই ভালো স্বাস্থ্য, তাই ঘুমের সমস্যাকে কখনোই অবহেলা করবেন না।
